নবী ( স:) নূরের তৈরীর কোরান,তফসির,হাদিসের দলিল প্রমাণ

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

নূরের তৈরী বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ সল্লাআল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর দলিল

web.facebook.com/search/str/নূরের+তৈরী+বিশ্বনবী+হযরত+মোহাম্মদ+সল্লাআল্লাহু+আলাইহে+ওয়া+সাল্লাম+এর+দলিল/keywords_search


নূরের তৈরী বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ সল্লাআল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর দলিল

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম27 January at 19:01নূরের তৈরী বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ সল্লাআল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর দলিলঃ
কোরান, কোরানের তফসির, হাদিস ও হাদিসের শরাহ সমুহ হতে কতেক দলিল প্রমাল নিম্নে রেফারেন্স হিসেবে দেওয়া হইল:

১ নং  >>>নূরের তৈরী বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ সল্লাআল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর দলিলঃ কিছু দলিলের সুত্র দেখুন:  

হযরত আবু
হুরায়রা (রাঃ), তাফসীরে মাদারিক ১ম খন্ড ৪১৭ পৃ:,
তাফসীরে খাজেন ১ম খন্ড ৪১৭, ২য় খন্ড ২৮ পৃ:,
৩য়
খন্ড ৩৩২ পৃ:,
তাফসীরে এলাহিয়্যা ১ম খন্ড ২০৭ পৃ:,
তবকাতুল কুবরা ২য় খন্ড ৬২ পৃ:,
নুজহাতুল মাজালিস-২য়
খন্ড ৯৬-৯৭ ইবনে আব্বা স রা:,
মা’রিফুল কুরআন ৫৪
পৃ: ও ৩০২ পৃ: ও ৯৪৫ পৃ:,
তাফসীরে রুহুল
মায়ানী ১ম খন্ড ২১৭ পৃ: ও ২য় খন্ড ৬ষ্ট পারা ৯৭
পৃ:, তাফসীরে রুহুল বয়ান সূরা মায়িদার ১৫
নং আয়াতের ব্যাখ্যা ও ৩য় খন্ড ৫৪৩ পৃ:,
বায়হাকী শরীফ ১ম খন্ড ৮০ পৃ:, শিফা শরীফ ১ম খন্ড
১০ পৃ:- ইবনে যুবাইরও ২য় খন্ড ৩২ পৃ: ও ৩য় খন্ড ৪৩
পৃ:, বেদায়া ও নেহায়া ২য় খন্ড ২৪১ পৃ:,
জুরকানী শরীফ ১ম খন্ড ৪৯ পৃ: ৪র্থ খন্ড ২২০ পৃ:,
শুকরম্নননি’মাতি
বিযিকরির রহমাতির রহমাহ্ -
লেখক আশ্রাফ আলী থানবী -৩৯ পৃ:,
আনওয়ারে মুহাম্মদিয়া ১৩ পৃ:, মাদারিজুন্নবুয়্
যত
১ম খন্ড৩০৯ পৃ:, ফতোয়ায়ে হাদিসিয়া ৫১ পৃ:,
মাতালিউল মুসাররাত ২৫৩ পৃ:, ইবরিছ ২৭২ পৃ:,
তাফসীওে কুরতুবী ৬ষ্ট পারা ১১৮ পৃষ্ঠা,
তাফসীরে বায়জাবী ১ম খন্ড ৬৪ পৃ:,
তাফসীরে মাজহারী ৩য় খন্ড ৬৮ পৃ:, শরহে সুন্নাহ
১০ম খন্ড ২০৭ পৃ:,। . . . . . প্রমাণ করতে কি এতটুকু
যথেষ্ট নয় ?????                                                  
                                                           ২ নং মূল আলোচনা:



মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

27 January at 18:48

মূল আলোচনা : 

নূরের তৈরী বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ সল্লাআল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর দলিলঃ

চরমপন্থী মুসলমানদের যুক্তি খন্ডন সহ বিস্তারিত :

বিশ্ব নবী হজরত মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে নুরের তৈরি তার প্রমাণ হিসাবে কোরান এবং কোরানের ব্যাখা তথা প্রসিদ্ব তফসির ( ভাষ্য ) কারকদের মতামত সমূহ দলিলপ্রমাণ হিসাবে এখানে তুলে ধরা হইল:

একদল চরমপন্থী মুসলমান আমাদের নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সুরা কাহাফের ﻗُﻞْ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِّﺜْﻠُﻜُﻢْ ১১০ নং আয়াত দিয়ে আমাদের মত মাটির তৈরী সাধারণ
মানুষ বলে প্রমান করতে চায় ( নাউজুবিল্লাহ ) |
বাশার শব্দের অর্থ মানুষ বা চামড়া, দৃষ্যমানরূপ বা প্রকাশিতরূপ।এইখানে (বাশার) শব্দের অর্থ শব্দের অর্থ যদি মানুষ নেওয়া হয় তা হলে মিছলুকুম শব্দের অর্থ কি ?
মিছলুকুম শব্দের অর্থ : মত ।
উত্তর কি দাড়াল মানুষের মত । মানুষের মত হওয়া আর মানুষ হওয়া কি এক ?
যদি তাই হয় যে মানুষের মত হওয়া ও মানুষ হওয়া একই কথা তে হলে হযরত জীব্রাইল (আ) দাহিয়া কালবীর রুপ নিয়ে আসতেন নবী পাকের কাছে তখন কি তিনি মানুষ হয়ে যান ?
না কি ফেরেস্থা থেকে যান ? কিন্তু বাশার
শব্দ দ্বারা মাটির তৈরী বুঝায় না কারণ আল্লাহ পাক কুরআনে জিব্রাঈল কে ও বাশার বলেছেন।আয়াতের আরবী শব্দ ﺑَﺸَﺮٌ (বাশার)দ্বারা অনেকেই শুধুমাত্রমানুষ বুঝাতে চায়। অথচ সূরা
মরিয়মের আয়াত – ১৭ তে ﺑَﺸَﺮً (বাশার) দ্বারা ফেরেস্তাকেও বুঝানো হয়েছে। দেখুন মূল
আরবী রেওয়াত সহ
ﻓَﺄَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻴْﻬَﺎ ﺭُﻭﺣَﻨَﺎ ﻓَﺘَﻤَﺜَّﻞَ ﻟَﻬَﺎ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺳَﻮِﻳًّﺎ
যেমন আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন," ফাআরু সালুনা ইলাইহা রুহানা ফাতামাচ্ছালা লাহা
বাশারান ছাওইয়া" অর্থাত্‍ আমি আমার রুহ(হযরত জিব্রাঈল আঃ) কে তাঁর(হযরত মরিয়ম আঃ) প্রতি প্ররণ করেছি, অতঃপর সে (জিব্রাঈল আঃ) তাঁর সামনে পূর্ণঙ্গ সুঠাম বাশার বা
মানুষের আকৃতিতে আত্ম প্রকাশ করেছেন। (সুরা মরিয়ম) এখন বলুন বাশার শব্দের দ্বারা যদি মাটির মানুষ বুঝায় তাহলে কি হযরত জিব্রাঈল ( আঃ ) মাটির তৈরী মানুষ ছিলেন? নাকি নুরের
তৈরী ফেরেশতা হয়েও বাশার বা মানবরুপে এসেছিলেন? সুতরাং রসুল (দঃ) ও নুরের তৈরী বাশার বা মানুষ হিসেবে দুনিয়ায় এসেছেন। মাটির তৈরী বাশার হয়ে নয়।
রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে নুর তার দলিল --- হযরত আমিনা (রাঃ) বলেন, "রাআইতু কানা
শিহাবান্ খরাজা মিন্নি আদায়া লাহুল আরদি" অর্থঃ আমি দেখলাম আমার থেকে যেন একটা উজ্জল নক্ষত্র বেরিয়ে এলো, যার আলোকে গোটা দুনিয়া আলোকিত হয়ে গেলো।
(আল খাসাইসুল কুবরা, সীরাতে হালাবিয়া দ্রষ্টব্য) ২. হযরত উম্মে সালমাহ্ (রাঃ) হযরত আমিনা (রাঃ)'র উক্তি বর্ণনা করেন, হযরত আমিনা রাঃ বলেন, "লাক্বদ রাআইতু লাইলাতা
উজিয়া রসুলুল্লাহি (সঃ)নুরান আদঅআত লাহু কুছুরুশ শামে হাত্তা রাআয়তুহা" অর্থঃ একথা নিশ্চিত যে, যে রাতে রসুল(দঃ) ইহ জগতে শুভ আগমন করলেন, সে রাতে আমি এক নুর
প্রত্যক্ষ করেছি, যার আলোতে সিরিয়ার দালানগুলো পর্যন্ত আলোকিত হয়েছিল।এমনকি আমি সেগুলো স্বচক্ষে দেখেছি।(আল খাসাইসুল কুবরা, আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ) ইত্যাদি।
আলোচ্য বিতর্কের সমাধান স্বয়ং বিশ্ব নবী হজরত মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করে দিয়ে গেছেন যা হাদিস সমূহে বিদ্যমান- বিশ্ব নবী হজরত মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
নিজে বলেছেন:
-- عن عبد الله بن عمر رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم اني لست مثلكم অর্থ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের অনুরুপ নই।" দলীল- √ বুখারী শরীফ - কিতাবুস সিয়াম - ১ খন্ড ২৬৩ পৃষ্ঠ √ ফতহুল বারী ৪/১৬৪ হাদীস শরীফে আরো
বর্নিত আছে- عن ابي سعيد رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم اني لست كهيتكم অর্থ : হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আমি ছুরতান বা আকৃতিগত ভাবেও তোমাদের মত নই।" দলীল-- √ বুখারী ১/২৬৩ √ ফতহুল বারী ৪/১৬৫ আরো বর্নিত আছে-
عن ابي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم ليكم مثلي অর্থ- হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
তোমাদের মধ্যে আমার অনুরূপ কে রয়েছো ? দলীল- √ বুখারী শরীফ ১/২৬৩ √ ফতহুল বারী ৪/১৬৭ উক্ত সহীহ হাদীস শরীফ থেকেই প্রমান হয়ে গেল, নবীজী নিজেই ফয়সালা করে
দিলেন- তোমাদের কেউ আমার মত নয়, আমিও তোমাদের মত নই। সুবহানাল্লাহ্ !! সূরা মায়িদা ১৫ নং আয়াত- দিয়ে প্রমাণ করবো হুজুর পুর নূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
ছিলেন নূরে মুজাস্সাম , নূরুন আলা নূর | নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপদ মস্তক ছিল নূর | সে জন্যই আমাদের নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জিসিম
মোবারকের ছায়া ছিল না এবং তাঁহার শরীর ও পোশাক মোবারকেমাছি বসত না | (শিফা শরীফ খন্ড, পৃষ্ঠা ২৪২) .
এই প্রসঙ্গে আপনাদের খেদমতে সংক্ষেপে কিছু দলিল উপস্থাপন করছি |
নবী করিম (সঃ) যে নুরের তৈরি তার দলিল
কোরআন শরীফের আলোকেঃ
আল্লাহ তায়া’লা ইরশাদ করেন-
قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين-
অর্থঃ নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা নূর এবং স্পষ্ট কিতাব এসেছে।। (সূরা মায়িদা আয়াত- ১৫)
আলোচ্য আয়াতে নূর দ্বারা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বুঝানো হয়েছে। নিম্নে আরো কয়েকটি প্রসিন্ধ তাফসীরের আলোকে দলিল উপস্থাপন করা হলঃ-
দলিল নং ১
বিশ্ব বিখ্যাত মুফাসসিরে কোরআন হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) এর বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে আববাস এর মধ্যে আছে-
قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين يعني محمدا صلي الله عليه ؤسلم-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। (তাফসীরে ইবনে আববাস পৃষ্ঠা ৭২)।
দলিল নং ২
ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত্-তবারী (রা) তাঁর বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে জারীর এর মধ্যে বলেন-
قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين يعني باالنؤر محمدا صلي الله عليه ؤسلم الذي انار الله به الحق واظهربه الاسلام ومحق به الشرك-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন, যে নূর দ্বারা আল্লাহ সত্যকে উজ্জ্বল ও ইসলামকে প্রকাশ করেছেন এবং
শিরিককে নিশ্চিহ্ন করেছেন। ( তাফসীরে ইবনে জারীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৮৬, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)।
দলিল নং ৩
মুহীউস্সুন্নাহ আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহাম্মদ (রাঃ) (যিনি ‘খাজিন’ নামে পরিচিত) তাফসীরে খাজেনের মধ্যে বলেন-
قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين يعنى باالنؤر محمدا صلي الله عليه وسلم انما سماه الله نور الانه يهداى بالنور في الظلام-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। আল্লাহ তায়া’লা তাঁর নামকরণ করেছেন নূর, কারণ তাঁর নূরেতে হেদায়ত
লাভ করা যায়। যেভাবে অন্ধকারে নূর দ্বারা পথ পাওয়া যায়। (তাফসীরে খাজিন ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭)।
দলিল নং ৪
ইমাম হাফেজ উদ্দীন আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আন- নাসাফী (রা) এই আয়াত শরীফ ( قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين) প্রসঙ্গে বলেন-
والنور محمد عليه والسلام لانه يهتداي به كما سمي سراجا منيرا-
আর নূর হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কেননা তাঁর নূরেতে হেদায়ত লাভ করা যায়, যেমন তাঁকে উজ্জ্বল প্রদীপ বলা হয়েছে। (তাফসীরে মাদারিক ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭)।
দলিল নং ৫
ইমামুল মুতাকাল্লেমীন আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী (রা) এই আয়াত শরীফ ( قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين) প্রসঙ্গে বলেন-
ان المراد بالنور محمد صلي الله عليه و سلم وبالكتاب القران-
অর্থঃ নিশ্চয়ই নূর দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং কিতাব দ্বারা আল কোরআন মজীদকে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে কবীর ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৫, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)।
আর যারা বলে যে ‘নূর ও কিতাবে মুবীন’ দ্বারা কুরআন মজীদকেই বুঝানো হয়েছে, ইমাম রাযী (রা) সে সম্পর্কে বলেন-
هذا ضعيف لان العطف يوجب المغايرة بين المعطوف والمعطوف عليه-
এই অভিমত দুর্বল, কারণ আতফ (ব্যাকরণগত সংযোজিত) মা‘তুফ (সংযোজিত) ও মা‘তুফ আলাইহি (যা তার সাথে সংযোজন কারা হয়েছে ) এর মধ্যে ভিন্নতা প্রমাণ করে।
(তাফসীরে কবীর ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৫)।
দলিল নং ৬
ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রা) বলেনঃ
قد جاءكم من الله نور هو نور النبى صلي الله عليه وسلم-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর এসেছে, তা হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক।
(তাফসীরে জালালাইন শরীফ পৃষ্ঠা ৯৭)
দলিল নং ৭
আল্লামা মাহমূদ আলূসী বাগদাদী (রা) বলেন-
قد جاءكم من الله نور هو نورعظيم هو نور الانوارالنبى المختار صلى الله عليه وسلم الى ذهب قتادة والزجاج-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে মহান নূর এসেছে । আর তিনি হলেন নূরুল আনোয়ার নবী মোখতার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এটাই হযরত কাতাদাহ ও
যুজাজের অভিমত। (তাফসীরে রুহুল মাআনী ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৭)।
আলোচ্য বিষয়ের সংক্ষিপ্তসার উচ্চারণসহ:
--- নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে নুর এবং প্রকাশ্য কিতাব এসেছে (সুরা মায়েদা আয়াত ১৫) আলোচ্য আয়াতে নুর দ্বারা নবীর 'নুর' কে বুঝানো হয়েছে।
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যাঃ
১.তাফসীরে জালালাইন শরীফে আছে ক্বদ্ জা আকুম মিনাল্লাহি নুরুন ওয়া হুয়ান্নবীয়ী সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অথাত্‍: নিশ্চয় তোমাদের নিকট আল্লাহর
পক্ষ থেকে নুর এসেছে। নুর হলেন নবী করীম (সঃ)
2.তাফসীরে মাযহারীতে বলা হয়েছে' ক্বদ্ জা আকুম মিনাল্লাহি নুরুন ইয়ানি মুহাম্মদ (সঃ) নিশ্চয় তোমাদের নিকট নুর এসেছে।
অর্থাত্‍ মুহাম্মদ (সঃ)
৩.তাফসীরে রুহুল মা আনীতে বর্ণনা করা হয়েছে, ক্বদ্ জা আকুম মিনাল্লাহি নুরুন আই আজিমুন ওয়াহুয়া নুরুল আন্ওয়ারি ওয়ান্নাবীয়ুল মুখতার (সঃ) অর্থাত্‍
নিশ্চয় তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে নুর অর্থাত্‍ মহান নুর এসেছে। তা হচ্ছে নুর গুলোর নুর এবং আল্লাহর মনোনীত নবী (সঃ)
বিশ্ব নবী হজরত মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে নুরের তৈরি তার সূত্রের প্রমাণ:
হযরত উমর ফারুক ইবনে খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) হতে বর্ণিত, তাজেদারে মদীনা,
হুজুর পূর নূর, মুহাম্মাদুর রাসূলাল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) ইরশাদ করেছেন, ওহে উমর তুমি জান কি? আমি সেই সত্ত্বা যাকে আল্লাহ তায়ালা সর্ব প্রথম নূর দ্বারা সৃষ্টি করেছেন । অতঃপর ঐ নূর আল্লাহকে সিজদা
করল । আর এই সিজদারত অবস্থায় সাতশত বছর অবশিষ্ট ছিল । তারপর ঐ নূরকে
সৃষ্টির প্রত্যেক প্রথম বস্তু আমাকে সিজদা করল ।
ওহে উমর ! আরশ আমার নূর হতে, কুরসি আমার নূর হতে, লাওহ-ক্বালাম আমার নূর হতে, চন্দ্র-সূর্য আমার নূর হতে, চোখের আলো আমার নূর হতে, সৃষ্টির মাথার মধ্যে বিবেক-বুদ্ধি আমার নূর হতে, মুমিনের ক্বলবের মধ্যে খোদা পরিচিতি আমার নূর হতে সৃষ্টি । এতে আমার কোন অহংকার বোধ নাই ।
[হাদীসটি আশ শায়খুল আকবার মহিউদ্দিন ইবনুল আরবী (রা) তালক্বীহুল ফহুম কিতাবের ১২৮ পৃষ্টায়, আল্লামা খারকুশি তাঁর শরফুল মুসত্বাফা কিতাবের ১ম খন্ডের ৭০৩ পৃ; {এতে ওনি আলি (রা.) কে উক্ত জায়গায় উপস্থিত
লিখেন}, আল্লামা আজুলুনি (রা) কশফুল খিফা কিতাবের ১ম খন ৩১১ পৃ, ঈমাম ক্বাস্তুলানি (রা.) তার মাওয়াহিবুল লাদুন্নীয়াহ কিতাব ইম খন্ডের ৬৮ পৃ. ঈমাম মালিক (রা.) তাঁর যিয়াদাতুললাহ ফাওয়ায়িদ কিতাবে বর্ণনা করেন )}]
এই হাদিসটি মূল বর্ণনা করেন ঈমাম বুখারি (রা.) এর দাদা উস্তাদ হযরত আবদুর রাযযাক (রা.) ওনার ‘জান্নাতুল খুলদ কিতাবে বর্ণনা করেন । যিনি জাবির (রা.) হতে শুনেছিলেন ।
“এই থেকে প্রমাণিত আমাদের রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) সর্ব
প্রথম সৃষ্টি এবং উনার নূরে সৃষ্টি জগৎ”সর্ব বিষয়ে আল্লহই ভালো জানেন।
বিশ্ব নবী মোহাম্মদ ( সা:): এর দুনিয়াবী হায়াত ৬৩ বৎসর তাহার প্রকৃত বয়স কিন্ত ৫৪০ কোটির ও অনেক অনেক বেশী সঠিক বয়স টা এক মাত্র আল্লাহপাক ভালো জানেন । প্রমাণ :
তাফসীরে রুহুল বয়ানে সুরা তাওবার আয়াত নং - ১২৮ এ অল্লাহ্ বলেন \" তোমাদের নিকট এক মহান রাসূলের আগমন হয়েছে\" এই আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে নবী করিম (দঃ) কোথা হতে আসলেন - সে সম্পর্কে হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে নিন্মোক্ত হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে।
হাদীসটি হলোঃ- একদিন নবী করীম (দঃ) কথা প্রসঙ্গে হযরত জিব্রাইল (আঃ) কে তাঁর বয়স সম্পর্কে এভাবে জিজ্ঞাস করলেন - হে জিব্রাইল তোমার বয়স কত? তদুত্তরে হযরত জিব্রাইল (আঃ) বল্লেন - আমি শুধু এটুকু জানি যে, নূরের চতুর্থ হিজাবে একটি উজ্জ্বল তারকা ৭০ হাজার বৎসর পর পর একবার উদিত হত। (অর্থাৎ সত্তর হাজার বৎসর উদিত অবস্থায় এবং সত্তর হাজার বৎসর অসত্দমিত অবস্থায় ঐ তারকাটি বিরাজমান ছিল)। আমি ঐ তারকাটিকে ৭২ হাজার বার উদিত অবস্থায় দেখেছি। তখন নবী করীম (দঃ) বল্লেন - খোদার শপথ, আমিই ছিলাম ঐ তারকা\"। এতে হযরত জিব্রাইল তখন বুঝতে পারলো দয়াল নবীর বয়স তার চেয়েও বেশী। (সুবহান-আল্লাহ্)। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ৩য় খন্ড ৫৪৩ পৃঃ সূরা তওবা এবং সীরাতে হলবিয়া ১ম খন্ড ৩০ পৃষ্ঠা)



৩নং : হাদিস শরীফের আলোকে কিছু প্রমাণ দেখুন।

হাদিসের আলোকে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ সল্লাআল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম নূরেরতৈরী এর প্রমাণ :

মিশকাত শরীফ ২৪ পৃঃ ১০ নং হাশিয়ায় উবাই
ইবনে জাবের (রাঃ) (মুসনাদ), ৭১পৃঃ হযরত আবু
আমামাহ (রাঃ) (ইবনে হিক্কান), মিশকাত শরীফ ৫১০
পৃঃ হযরত যুরাতা ইবনে আউফ (রাঃ) (আহমদ ও
তিরমীযি) মিশকাত শরীফ ৫১১ পৃঃ ৬ নং হাশিয়ায়
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) (বুখারী শরীফ), মিশকাত
শরীফ ৫১৩ পৃঃ হযরত ইবরাজ (রাঃ) (শরহে সুন্ন্াহ),
৫১৮ পৃঃ হযরত আব্বাস (রাঃ) (দারেমী), ২২৭
পৃঃ ইবনে আব্বাস (রাঃ) (হাজরে আসওয়াদ পাথর),
ইবনে ওমর (রাঃ) (তিরমীযি),
মাওয়াহিবে লাদুনিয়া ১ম খন্ড ৯ম পৃঃ,
হলবিয়া ১ম খন্ড ৩০ পৃষ্ঠা)
এর দ্বারা পোস্ট করা বিকল্প ( আয়ুর্বেদিক,ইউনানী ) চিকিৎসা,চট্টগ্রাম,বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১৪ ৮৩৯ ৪৫৪ / ০১৮২৩ ৬৯১ ০০৩ Imo/whatsapp no: 01823 691 003 এই সময়ে ৩:৪৫ AM
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

হোম
এতে সদস্যতা: মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

আমার সম্পর্কে

বিকল্প ( আয়ুর্বেদিক,ইউনানী ) চিকিৎসা,চট্টগ্রাম,বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১৪ ৮৩৯ ৪৫৪ / ০১৮২৩ ৬৯১ ০০৩ Imo/whatsapp no: 01823 691 003
আমার সম্পূর্ণ প্রোফাইল দেখুন

ব্লগ সংরক্ষাণাগার

  • ▼  2018 (1)
    • ▼  ফেব্রুয়ারি (1)
      • নূরের তৈরী বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ সল্লাআল্লাহু আলা...
ওয়াটারমার্ক থিম. Blogger দ্বারা পরিচালিত.